কাপ্তাই লেকে হাউসবোটে থাকতে চান? জেনে নিন খরচসহ বিস্তারিত
· Prothom Alo
ঈদের ছুটিতে ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে শান্ত অবকাশ খুঁজছেন? কাপ্তাই হ্রদে হাউসবোটে ভাসতে ভাসতে রাত কাটানো, জলে সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত দেখা আর দল বেঁধে আড্ডা, সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জানাচ্ছেন সজীব মিয়া
কাপ্তাই হ্রদের মাঝখানে আপনি, চারদিকে বিস্তৃত জলরাশি, দুই পাশে সবুজ পাহাড়ের সারি—ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির এমন সান্নিধ্যে থাকতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। সেখানে কাপ্তাই হ্রদে বেশ কয়েক বছর আগে চালু হয়েছে হাউসবোট। এসব বোটে সারা দিন হ্রদের জলঘেরা সৌন্দর্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে। বোটগুলোর আকার অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ কিংবা ১৫ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত একসঙ্গে থাকতে পারেন। এতে রয়েছে ডাইনিং স্পেস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আধুনিক শৌচাগার, খোলা ডেক ও বিনোদনের নানা সুবিধা। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী, পাহাড়ি খাবার ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজনও করা হয়।
Visit een-wit.pl for more information.
হাউসবোটে এক দিন এক রাত কিংবা দুই দিন এক রাতের প্যাকেজে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক ভাড়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
হাউসবোট কর্তৃপক্ষদের তথ্য অনুযায়ী, দুইভাবে হাউসবোট নিতে পারেন। পুরো হাউসবোট অথবা মাথাপিছু। পুরো হাউসবোট আলোচনাসাপেক্ষ আর জনপ্রতি ৬ থেকে ৯ হাজার টাকা।
রাঙামাটি শহরের পর্যটন কমপ্লেক্স ঘাট, শহীদ মিনার ঘাট, রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট, সমতা ঘাট, রাজবাড়ি ঘাট ও শিল্পকলা ঘাট থেকে হাউসবোটে ওঠা যায়। এসব বোট পর্যটকদের নিয়ে যায় হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে, যেমন সুবলং ঝরনাসহ আশপাশের দ্বীপ, ভিউ পয়েন্ট ও রেস্টুরেন্ট এলাকায়।
হাউসবোটভেদে নির্ভর করে কেবিনের সুযোগ–সুবিধাঈদের ছুটিকে সামনে রেখে এখন থেকেই আগাম বুকিং চলছে। হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাপ্পি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘কাপ্তাইয়ে বর্তমানে ১৩টি হাউসবোট সেবা দিচ্ছে। ঈদের ছুটিতে ২১ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত হাউসবোটগুলো প্যাকেজ অফার করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।’
কাপ্তাইয়ের কয়েকটি হাউসবোট
লুসাই
মোবাইল: 01884-388169
ফেসবুক: fb.com/lushaithewatervilla
রাঙ্গাতরী
মোবাইল: 01853–496162
ফেসবুক: fb.com/rangatori.rgt
সুখের তরী
মোবাইল: 01880-879599
ফেসবুক: fb.com/sukhertorihouseboat
সেলোরা
মোবাইল: 01632-003406
ফেসবুক: tinyurl.com/yudwwyet
টাঙ্গুয়ার হাউসবোট ‘মাস্তুল’ গত মাস থেকে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থান করছেচিলমারী বন্দরে ‘মাস্তুল’
টাঙ্গুয়ার হাউসবোট ‘মাস্তুল’ গত মাস থেকে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থান করছে। চিলমারী থেকে পর্যটকদের নিয়ে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র মিলনস্থল, ধরলা-ব্রহ্মপুত্র সংযোগ এলাকা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীর মোহনা, ব্রহ্মপুত্রের বাংলাদেশের প্রবেশমুখ এবং রৌমারী বন্দর হয়ে সাহেবের আলগা পর্যন্ত বিভিন্ন নদী, চর ও গ্রামীণ জনপদে ভ্রমণের আয়োজন করছে। মাস্তুলে এক দিনের নৌবিহার এবং দুই দিন এক রাতের প্যাকেজ চালু আছে। আগ্রহীরা পারিবারিকভাবে ভাড়া নিয়েও ভ্রমণ করতে পারবেন। একসঙ্গে ২৮ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা আছে।
মোবাইল: 01820-032975
ফেসবুক: fb.com/mastulboat
হাওরের হাউসবোট
হাওর অঞ্চল মূলত বর্ষাকালেই জমজমাট থাকে। জুন-জুলাই থেকে শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে। হাওরে পানি কমে এলে বেশির ভাগ হাউসবোটই অলস পড়ে থাকে। তবে কিছু কিছু হাউসবোট বিশেষ প্যাকেজ চালু করে। তারা সুরমা, বৌলাই, জাদুকাটা নদীপথ ধরে হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্য ও প্রকৃতি দেখার সুযোগ করে দেয়। এ পথে ধর্মপাশার সুখাইড় জমিদার বাড়ি, টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার, বারেক টিলা, শিমুলবাগান, শহীদ সিরাজ লেক ঘুরে দেখা যায়।
ঈদের ছুটিতে দেখে আসতে পারেন শুষ্ক মৌসুমের হাওরাঞ্চল।
ঢাকার কাছেই পদ্মায় হাউসবোট ভ্রমণ, কত খরচ আর বুকিং কোথায়