কোরআনের প্রধান ৭টি বিরতি চিহ্ন চিনে নিন

· Prothom Alo

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি রয়েছে, যাকে পরিভাষায় ‘তাজবিদ’ বলা হয়। তেলাওয়াতের সময় সঠিক জায়গায় থামা এবং সঠিক জায়গা থেকে পুনরায় শুরু করা অর্থ বোঝার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কোরআনের এই বিরতি চিহ্নগুলোকে বলা হয় ‘ওয়াকফ’।

কোরআন পাঠের সময় কোথায় থামবেন, কতটুকু থামবেন, কোথায় না–থেমে মিলিয়ে পড়বেন, তা বুঝতে ওয়াকফ বা বিরতি চিহ্নগুলো চেনা জরুরি। সঠিক নিয়মে না থামলে অর্থ বদলে যেতে পারে; কোরআন পাঠের আদবের খেলাফ এবং পাপের কারণ।

Visit saltysenoritaaz.com for more information.

অনেক সময় না বুঝে ভুল জায়গায় থামলে আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যেতে পারে। তাই শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতকারীকে অবশ্যই এই চিহ্নগুলোর গুরুত্ব বুঝতে হবে। কোরআন তেলাওয়াতের প্রধান ৭টি বিরতি চিহ্ন ও সেগুলোর নিয়ম আলোচনা করা হলো:

১. আবশ্যিক বিরতি

আয়াতের মধ্যে যখন ছোট ‘মিম’ (مـ) চিহ্নটি দেখা যায়, তখন সেখানে থামা বাধ্যতামূলক। একে বলা হয় ‘ওয়াকফে লাজিম’।

এখানে না থেমে তেলাওয়াত চালিয়ে গেলে আয়াতের অর্থ পুরোপুরি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই চিহ্নটি দেখামাত্রই পাঠককে তেলাওয়াত থামাতে হবে।

কীভাবে কোরআন পড়লে জীবন বদলে যাবে

২. অনুমোদিত বিরতি

আরবি ‘জীম’ (ج) চিহ্নটি দিয়ে বোঝানো হয়, এখানে থামা জায়েজ বা অনুমোদিত। একে বলা হয় ‘ওয়াকফে জায়েজ’। পাঠক চাইলে এখানে থামতে পারেন, আবার চাইলে তেলাওয়াত চালিয়েও যেতে পারেন।

তবে এখানে সামান্য বিরতি নেওয়া উত্তম, যাতে পাঠক আগের অংশের অর্থ অনুধাবন করতে পারেন এবং পরের অংশের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারেন।

৩. বিরতি নেওয়া উত্তম

যদি আয়াতের ওপর ‘কাফ, লাম, ইয়া’ (قلی) চিহ্নটি থাকে, তবে বুঝতে হবে এখানে বিরতি নেওয়া বা থামা উত্তম। একে বলা হয় ‘ওয়াকফে কলীল’।

যদিও তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়, তবে তেলাওয়াতের সৌন্দর্য এবং অর্থের গাম্ভীর্য রক্ষায় এখানে থামাটাই শ্রেয়।

৪. মিলিত বিরতি

কোরআন তেলাওয়াতের সময় অনেক জায়গায় পাশাপাশি দুটি ‘তিনটি ফোঁটা’ সংবলিত চিহ্ন (∴) দেখা যায়। একে বলা হয় মুআনাকাহ।

এর নিয়ম হলো, পাঠক এই দুটি চিহ্নের যেকোনো একটিতে থামবেন, কিন্তু দুই জায়গায় থামবেন না। অর্থাৎ একটিতে থামলে অন্যটিতে তেলাওয়াত চালিয়ে যেতে হবে।

৫. নিশ্বাসহীন বিরতি

আয়াতের ওপর ছোট ‘সীন’ (س) চিহ্নটি থাকলে তাকে ‘সাকতাহ’ বলা হয়। এর নিয়ম হলো, পাঠক এখানে খুব অল্প সময়ের জন্য কণ্ঠ থামাবেন, কিন্তু নিশ্বাস ছাড়বেন না। অর্থাৎ নিশ্বাস আটকে রেখে সামান্য সময় থেমে পুনরায় তেলাওয়াত শুরু করতে হবে।

কোরআনে বর্ণিত ‘অগ্রগামী দল’ কোনটি

৬. মিলিয়ে পড়া উত্তম

যখন আয়াতের ওপর ‘সোয়াদ, লাম, ইয়া’ (صلی) চিহ্নটি দেখা যায়, তখন থামার চেয়ে মিলিয়ে পড়া বা তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া উত্তম। একে বলে ‘ওয়াকফে আওলা’। বিশেষ কোনো কারণ বা নিশ্বাসের স্বল্পতা না থাকলে এখানে না থামাটাই ভালো।

৭. থামা নিষেধ

আরবি ‘লাম-আলিফ’ (لا) চিহ্নটির অর্থ হলো ‘না’। অর্থাৎ এখানে থামা যাবে না। তেলাওয়াত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া এখানে জরুরি।

এই চিহ্নে থামলে বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায় বা বিকৃত হতে পারে। তবে যদি এই চিহ্নটি কোনো আয়াতের শেষে (গোলাকার চিহ্নের ওপর) থাকে, তবে সেখানে থামা যাবে।

শেষ কথা

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের সময় এই চিহ্নগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। সঠিক ছন্দ ও নিয়ম মেনে তেলাওয়াত করলে যেমন সওয়াব পাওয়া যায়, তেমনি আল্লাহর বাণীর প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করা সহজ হয়। নিয়মিত তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই চিহ্নগুলোর ব্যবহার আয়ত্ত করা সম্ভব।

কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর কোরআন পাঠ করো সুষ্পষ্টভাবে ও ধীরে ধীরে।’ (সুরা মুজ্‌জাম্মিল, আয়াত: ৪)

মক্কার অনুর্বর উপত্যকায় বসতি ও ভাষার প্রশ্ন

Read full story at source