বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত সব স্থাপনার আলো নিভিয়ে আর্থ আওয়ার পালন
· Prothom Alo

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পৃথিবী। জ্বালানি চাহিদার কারণে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আর তাই সবাইকে জ্বালানি সম্পর্কে সচেতন করতে বিশ্বজুড়ে স্থানীয় সময় ২৮ তারিখ রাতে বিভিন্ন দেশে পালন করা হয়েছে ‘আর্থ আওয়ার’। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচি নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ প্রতিবছর বিশ্ববাসীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখতে উৎসাহিত করে। এবারের ২০তম বর্ষপূর্তিতেও ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘরবাড়ি, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় স্থাপনার বাতি এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
Visit biznow.biz for more information.
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের আয়োজনে এই কর্মসূচি ২০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ আন্দোলনের একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা চললেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি যে আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন আয়োজকেরা।
ডব্লিউডব্লিউএফ জার্মানির জলবায়বিষয়ক প্রধান ভিভিয়ান রাডাতজ বলেন, ‘বর্তমানে অনেক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ভিড়ে জলবায়ু সংকট বারবার আড়ালে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এই সংকট হারিয়ে যায়নি, বরং এটি অন্যান্য অনেক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। আর্থ আওয়ারের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু রক্ষার বিষয়টি আবার জনসমক্ষে নিয়ে আসছি। আমরা এটি দৃশ্যমান করছি যে মানুষ এই বিষয়ে সচেতন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক এজেন্ডার একেবারে শীর্ষে রাখা জরুরি।’
শুরুতে একটি নির্দিষ্ট শহরের উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে আর্থ আওয়ার একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এক ঘণ্টার জন্য বাতি নেভানো সরাসরি কার্বন নিঃসরণ খুব বেশি না কমালেও এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে ভাবিয়ে তোলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি ধরিত্রী রক্ষার এক নীরব অথচ শক্তিশালী ডাক। এবারের ২০তম আসরে অংশ নেওয়া দেশগুলো কেবল বাতি নেভানোর পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে এই আয়োজনকে আরও অর্থবহ করে তুলছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে