‘এই গাধা দেখো, গাধা’, ঈদের দিনে চিড়িয়াখানায় শিশুদের উচ্ছ্বাস

· Prothom Alo

‘এই গাধা দেখো, গাধা’—এই বলে চার বছর বয়সী মেয়ে হুমায়রা ইসলামকে ওপরে তোলেন হ্যাপি আক্তার। ওপরে তুলে মেয়েকে কিছুক্ষণ ধরে রাখেন তিনি, যাতে তাঁর মেয়ে গাধা প্রাণীকে দেখতে পারে।

Visit michezonews.co.za for more information.

মেয়েকে গাধা দেখানো শেষ হলে হ্যাপি বলছিলেন, রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর এলাকা থেকে তাঁরা পরিবারের সাত সদস্য একসঙ্গে ঘুরতে এসেছেন। গাধা খুবই পরিচিত প্রাণী। তবে সচরাচর দেখা যায় না।

হ্যাপি বলেন, তাঁর মেয়ে এর আগে একবার গাধা দেখেছিল। সে কথা তার মনে থাকার কথা নয়। সে কারণে আজ আবার প্রাণীটি মেয়েকে দেখালেন।

রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড় তৈরি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন হ্যাপি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মতো হাজারো মানুষ।

ঈদের দিনে বিনোদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের ভিড়। ঈদ–আনন্দ বাড়াতে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আসেন চিড়িয়াখানায়

আজ শনিবার দুপুরে দেখা যায়, ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এসেছেন। দর্শনার্থীদের কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। কেউ এসেছেন বন্ধুবান্ধবেরা মিলে। এসেছেন তরুণ-তরুণীরাও। কেউ ঘুরে ঘুরে প্রাণী দেখছেন। কেউ কেউ প্রাণীদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। ছবি তুলছেন প্রাণীদের, কেউ কেউ করছেন ভিডিও। আবার অনেকে চিড়িয়াখানার প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ছবি তুলছেন। এভাবে ঘুরে ঘুরে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন দর্শনার্থীরা।

মুন্সিগঞ্জ থেকে রিফাত আহমেদ, মো. মিলন, মো. শিপন ও মো. রাকিবুল নামের চার তরুণ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন আজ। তাঁরা একই এলাকার। তাঁরা বন্ধুও। একেকজন একেক জায়গায় থাকেন। ঈদে একসঙ্গে হয়েছেন, তাই ঘুরতে এসেছেন।

এর মধ্যে রিফাত আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আজ বেলা একটার দিকে তাঁরা চিড়িয়াখানায় এসেছেন। এর আগে তিনি এখানে আসেননি। ঈদের দিনে বন্ধুরা একসঙ্গে আসতে পেরে এবং প্রাণীদের দেখতে পেয়ে তিনি খুশি।

সাভারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ওমর ফারুক। ঘুরে ঘুরে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে জিরাফের খাঁচার কাছে বসে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বিশ্রাম করছিলেন তিনি।

জাতীয় চিড়িয়াখানার ফটকের সামনে মানুষের ভিড়

ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। কিন্তু এবার ঈদে তাঁরা গ্রামে যাননি। এদিকে তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে আল ইমরান জাতীয় চিড়িয়াখানায় এর আগে কখনো আসেনি। এত পশুপাখিও দেখেনি। তাই ঈদের দিনে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন।

আল ইমরানকে প্রথম আলোর প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করেন, সে জিরাফ দেখেছে কি না। জবাবে আল ইমরান বলে, ‘ওই দেখো, তোমার পেছনে জিরাফ।’ আল ইমরান আরও বলে, বাঘ, সিংহ, উটপাখি, সাপসহ অনেক কিছু দেখেছে সে। এর আগে মোবাইলে সে এসব প্রাণী দেখেছিল। আজ সরাসরি এসব প্রাণী দেখতে পেয়ে সে খুবই খুশি।

জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেঙ্গল টাইগার, কালো ভালুক, হায়েনা, হাতি, জলহস্তী, ক্যাঙারু, অজগর, ঘড়িয়াল থেকে শুরু করে উটপাখিসহ ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজার ৫২৩টি প্রাণী, পাখি ও মাছ রয়েছে।

Read full story at source