ভোলার স্বজনদের ধারণা, ভিডিও ভাইরাল বা ব্যক্তিগত বিরোধে রাকিবকে হত্যা করা হতে পারে
· Prothom Alo

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত তরুণ রাকিবুল ইসলামের (২৫) নানা ও দাদার বাড়ি ভোলায়। স্বজনেরা জানান, সপরিবার রাজধানীতে বসবাস করার কারণে সেখানে খুব একটা আসা-যাওয়া করতেন না। তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের বাড়িতে মাতম। খবর পেয়ে কেউ কেউ ছুটে গেছেন ঢাকায়।
রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাখিরপুল এলাকায়। তাঁর বাবা তারিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন তাঁরা। রাকিব স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন।
Visit livefromquarantine.club for more information.
শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তরুণ নিহতগতকাল রোববার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন রাকিবুল ইসলাম (২৫)।
আজ সোমবার সকালে পাখিরপুল এলাকায় গিয়ে জানা যায়, রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম চাকরির সুবাদে অনেক আগেই রাজধানীতে চলে যান। কয়েক বছর আগে দাদা তছির আহমেদের মৃত্যুর সময় সপরিবার ভোলার ওই বাড়িতে সর্বশেষ এসেছিলেন রাকিব। বর্তমানে সেখানে তাঁর চাচা ও ফুফুরা বাস করেন। রাকিবের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরাও ঢাকায় চলে গেছেন।
রাকিবুল ইসলামের দাদার বাড়ি। হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরুষ সদস্যদের অধিকাংশই ছুটে গেছেন ঢাকায়। আজ সকালে তোলা ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাখিরপুল এলাকায়রাকিবের চাচাতো বোন রেনু আক্তার (৩৫) বলেন, তাঁরা জানেন, রাকিব ঢাকার একটি কলেজে স্নাতকে পড়াশোনা করতেন এবং টিকটকে ভিডিও বানাতেন।
স্বজনেরা বলেন, ভোলায় বেড়াতে এলে রাকিব বেশির ভাগ সময় নানার বাড়িতেই থাকতেন। দাদার বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তাঁর নানার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকায়। তাঁদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়া বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যা করে থাকতে পারে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তাঁরা।
রাকিবের নানার বাড়িতে গিয়ে কোনো পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। নানা সালাউদ্দিন আহমেদসহ মামা-খালারা সবাই ঢাকায় চলে গেছেন। রাকিবের নানি মাহমুদা বেগম (৬৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি জেনেছেন, এক বান্ধবী ফোন করে রাকিবকে শহীদ মিনার এলাকায় যেতে বলেছিলেন। তখন লোকজন কম ছিল। সেই সুযোগে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা রাকিবকে পিঠমোড়া করে বেঁধে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাতুড়ি দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় গুলি করা হয়।
রাকিবের নানার বাড়ির স্বজনেরা বলেন, প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন রাকিব। এরপর একবার স্ত্রীকে নিয়ে ভোলার বিসিক এলাকায় খালুর বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। সেখানে ২৫-৩০ বছর আগে একটি ঘর করেছিলেন রাকিবের বাবা। তবে ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়নি।