জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার রিভিউ হচ্ছে

· Prothom Alo

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষিত তালিকা নিয়ে বিতর্ক ওঠায় প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনার কথা ভাবছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা, সেরা চিত্রনাট্যসহ কয়েকটি বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ করা শুরু হয়েছে, রিভিউপ্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে।

Visit forestarrow.rest for more information.

আজীবন সম্মাননা বিভাগে উল্লেখিত দুজন—চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ( ১৩ আগস্ট ২০১১) ও চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু ( ৪ জানুয়ারি ২০২৬)—প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই মারা গেছেন। অথচ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্তাবলির ১(খ) অনুযায়ী, আজীবন সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনার কথা উল্লেখ আছে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য না লেখার পরও একজনকে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজীবন সম্মাননা বিভাগে উল্লেখিত দুজন—চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ( ১৩ আগস্ট ২০১১) ও চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু ( ৪ জানুয়ারি ২০২৬)—প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই মারা গেছেন।

অথচ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্তাবলির ১(খ) অনুযায়ী, আজীবন সম্মাননার জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনার কথা উল্লেখ আছে।

জানা গেছে, আজীবন সম্মাননার জন্য অভিনেত্রী শবনম ও ইলিয়াস জাভেদের নাম সুপারিশ করেছিল জুরিবোর্ড।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য মকসুদ জামিল মিন্টু আজীবন সম্মাননা ছাড়াও দু-একটি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিচারকের রায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। একজন বিচারক হিসেবে সব সময় আমার চাওয়া থাকবে, এ ধরনের পুরস্কারের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিচারকদের রায়ের যেন পূর্ণ প্রতিফলন হয়। তাই রিভিউ করা হলে ভালো।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য মকসুদ জামিল মিন্টু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব বিচারক ফলাফল বিষয়ে একমত হয়েছিলাম। আজীবন সম্মাননা ও অন্যান্য বিভাগের পুরস্কার নিয়ে কারও কোনো ধরনের দ্বিমত ছিল না। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখা গেছে, আজীবন সম্মাননা ছাড়াও দু-একটি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিচারকের রায় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। একজন বিচারক হিসেবে সব সময় আমার চাওয়া থাকবে, এ ধরনের পুরস্কারের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিচারকদের রায়ের যেন পূর্ণ প্রতিফলন হয়। তাই রিভিউ করা হলে ভালো।’

আরেক বিচারক নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখেছি, কয়েকটি ক্ষেত্রে আমাদের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে। আমি মনে করি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত রাখা সরকারের দায়িত্ব। তাই আবার নতুনভাবে পর্যালোচনা করলে ভালো। এ পর্যালোচনার জন্য বিচারক হিসেবে আবারও যদি ডাকা হয়, সময় দিতে রাজি আছি।’

বিচারক নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সিজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত রাখা সরকারের দায়িত্ব। তাই আবার নতুনভাবে পর্যালোচনা করলে ভালো। এ পর্যালোচনার জন্য বিচারক হিসেবে আবারও যদি ডাকা হয়, সময় দিতে রাজি আছি।

পুরস্কার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী বিচারকেরা প্রতিটি বিভাগে যিনি বেশি নম্বর পেয়ে থাকেন তাঁকে মুখ্য, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শিল্পীকে বিকল্প হিসেবে সুপারিশ করেন। চূড়ান্ত বৈঠকে সাধারণত সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিচারক ও মন্ত্রণালয় যখন যুগ্মভাবে পুরস্কার দেওয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেন, তখন মুখ্য যিনি তাঁর সঙ্গে প্রয়োজনে বিকল্পকেও নির্বাচিত করে থাকেন। তবে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ব্যাপারে বিচারকেরা কখনোই সম্মত হন না। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি বলেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিতর্ক এড়াতে ও বিচারকদের প্রদত্ত নম্বরের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতেই পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজীবন সম্মাননা ও কয়েকটি বিভাগ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিতর্ক এড়াতে ও বিচারকদের প্রদত্ত নম্বরের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতেই পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজীবন সম্মাননা ও কয়েকটি বিভাগ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ প্রদানের জন্য ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরে জুরিবোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিচারকেরা ছবি দেখা শেষ করেন। ৪ মার্চ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা দেন। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় তার প্রায় ১১ মাস পর—২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি।

শর্ত লঙ্ঘন ও বিচারকদের সুপারিশ অগ্রাহ্যের মতো অভিযোগগুলো সামনে আসার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার–২০২৩ পুনঃপর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রিভিউ শেষে একটি স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে, এমনটাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা।

Read full story at source