ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীর ধাওয়ায় শিক্ষার্থী নিখোঁজ, ২৬ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি
· Prothom Alo

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর পাশে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে আনন্দমোহন কলেজে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন পালিয়ে ফিরেছেন। তবে নিখোঁজ রয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ কলেজছাত্রকে আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
Visit fishroad-app.com for more information.
এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করেছেন নিখোঁজ ছাত্রের মা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক কিশোরকে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।
এদিকে শিক্ষার্থী শাওনকে অক্ষত উদ্ধারের দাবিতে আজ বেলা তিনটার দিকে আনন্দ মোহন কলেজ চত্বরে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
নিখোঁজ নুরুল্লাহ শাওনপুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল ঘিরে ধরে তাঁদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওন কোন দিকে গেছেন তার সন্ধান মেলেনি। পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে থানা–পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। রাতে শাওনের সন্ধান শুরু করলেও পাননি বন্ধুরা। আজ সকালে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি শাওনের।
ঘটনার সময় শাওনের সঙ্গে থাকা মঞ্জুরুল আহসান বলেন, ‘জয়নুল উদ্যান এলাকায় থাকা লাইব্রেরিতে পড়া শেষে বিকেলে দুজন ঘুরতে গিয়ে একটু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকারী কিশোর দল আমাদের ঘিরে ধরে। আমাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন দিতে চাইলেও তারা মারধর করে। দুই বন্ধু আত্মরক্ষার্থে দুদিকে ছুটে যাই। আমি বাঁচতে পারলেও বন্ধুকে খুঁজে পাচ্ছি না। জানি না ওর কী হয়েছে।’
শিক্ষার্থী শাওনকে অক্ষত উদ্ধারের দাবিতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আজ বেলা তিনটার দিকে কলেজ চত্বরে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে থাকা কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
আজ বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী নদীর ওপারে ঘুরতে গিয়েছিলেন। একজনকে এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক একজন কিশোরকে আটক করে আমাদের হেফাজতে দেয়। তাকে আমরা গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। আগামীকাল (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সবাই কিশোর; অষ্টম-নবম শ্রেণির ছাত্র। নিখোঁজ ছাত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার অভিযান চলবে।’